ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে স্থানীয় সময় শুক্রবার শেষ রাত থেকে বোমারু বিমানের ওড়ার আওয়াজ এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুনও ধরে গেছে এবং সেসব জায়গা থেকে উঠছে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলি।
কারাকাসের দক্ষিণ দিকে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ফরচুনা অবস্থিত। বিস্ফোরণের অধিকাংশ শব্দ সেখান থেকেই এসেছে। খবর আল জাজিরার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধি লুসিয়া নিউমান জানিয়েছেন, ফরচুনার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় গতকাল শেষ রাত এবং আজ ভোরবেলায় সিরিজ বিস্ফোরণ হয়েছে।
বিস্ফোরণ শুরুর পর থেকেই ফরচুনা ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। লুসিয়া নিউম্যান বলেন, ফরচুনা ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি। আমরা এখনও জানি না যে এই সিরিজ বিস্ফোরণের কারণ কী? এখানে অনেকে ধারণা করছেন, মেক্সিকোতে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার অনেকে মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উৎখাত করার জন্য সেনাবাহিনীর সরকারবিরোধী কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ নাশকতা চালাচ্ছেন। এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
এদিকে কারাকাসে বিস্ফোরণ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগণে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু পেন্টাগণের কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ইচ্ছা বা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তিন চান ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশ ছেড়ে চলে যান।
গত সপ্তাহের সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কথিত মাদকবাহী নৌযানের সঙ্গে যুক্ত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।
তবে, এটি সামরিক বাহিনী নাকি সিআইএ পরিচালিত অভিযান ছিল— সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ট্রাম্প। হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানও তিনি উল্লেখ করেননি; শুধু বলেছেন, এটি ছিল উপকূলীয় এলাকায়।
নতুন এই হামলাই ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থলভিত্তিক হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে যখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প, সে সময় থেকেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করতেন তিনি। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যাপারে তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোর ওপর সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছেন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ভেনেজুয়েলার যে কোনো ট্যাংকার জাহাজ দেশটির বন্দর ছেড়ে গেলে বা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলেই সেগুলোকে জব্দ করা হবে।
গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার চারটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজগুলো তেল রপ্তানির কাজে ব্যবহার করা হতো।
আরটিভি/এসএইচএম




